প্যারেন্টিং -অথারিটি
প্যারেন্টিং -অথারিটি

সাম্প্রতিককালে একটা বিষয় খুব শুনি, সেটা হল বাচ্চাকে সময় দান। বিশেষ করে মা চাকুরী করলে আর তার বাচ্চা পড়াশোনায় তেমন ভাল করতে না পারলে বা কোনভাবে কোন আচরণে খারাপ হয়–ঐ মায়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়, এটা ঐ চাকুরীর ফলাফল। কথা হল যে মায়েরা হাউজওয়াইফ তাদের বাচ্চারাই কি সব সময় মানুষ হয়।বাচ্চা কাজের মানুষের আচরণ শিখে ফেলবে।কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনই হয় বাচ্চাকে অতিরিক্ত সময় দান করতে গিয়ে তার দাদা নানা বা রিলেটিভ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। সময়টা আসলেই খারাপ, বাচ্চারা কোথায় সিকিউর তাহলে?কাজের মানুষ থেকে রিলেটিভ কাউকেই বিশ্বাস করা যায়না।পেডোফিল, গুম, অপহরণ, অপসংস্কৃতি এইসব ভয়ে চাকুরীজীবি বাবা মা তো ভয় পানই, পাশাপাশি স্বাভাবিক মায়েরাও ভয় পান। ফলে বাচ্চাকে অন্য বাচ্চার সাথে মিশতে দেননা, সারাক্ষণ নিজের কাছে রাখেন।কোন স্কুলে প্রবেশ করলে বোঝা যায় কি পরিমান উদ্বিগ্ন থাকেন বাবা মা। আমার আজকের কথা হল,বাবা মায়ের বাচ্চাদের সময় দান নিয়ে।এজন্য বুঝতে হবে, প্যারেন্টিং বিষয়টা কি? বাবা মা হল বাচ্চার বায়োলোজিক্যাল প্যারেন্ট।কিন্তু এই প্যারেন্টিং এর ভূমিকা নিতে পারে নানা, দাদা, খালা, ফুফু, চাচা, মামা, অন্য যেকোন ফ্যামিলি, এমনকি সরকারও হতে পারে।প্যারেন্টিং ব্যাপারটা হল অথারিটি। প্যারেন্টিং এ বড় ভূমিকা রাখে সংস্কৃতি বা কালচার, তারপরেই অর্থনীতি। কোন পরিবেশে বাচ্চা বড় হচ্ছে এটা হল সবচেয়ে বড় বিষয়। বাচ্চার বাবা মা সময় দিলেই যে বাচ্চার নৈতিকতার ডেভেলাপমেন্ট হবে তা কিন্তু নয়। বাচ্চা পালনের জন্য দক্ষতা, ধৈর্য্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সময়দান হতে হবে কোয়ালিটি টাইম গিভেন। আমার মনে আছে আমি যখন ছোট ছিলাম আমার দাদাভাই আমাদের প্রচুর গল্প বলতেন। কত্ত ধরনের গল্প! বাংলার ইতিহাসের শশাঙ্কের গল্পও শুনেছি তার কাছে থেকে। কয়টা বাবা-মার এই ধৈর্য্য বা সময় থাকে এই গল্প বলার। অথচ স্টোরি টেলিং কোয়ালিটি টাইম গিভেনের একটা অংশ। আমরা ইসলামের ধর্মের অনুসারীরা জানি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত মুহাম্মদ সা.। তিনি ছিলেন ইয়াতীম। ছয়বছর পর্যন্ত ভাষা শিক্ষার(কালচার) জন্য বড় হয়েছেন তায়েফে দুধমাতার কাছে। তাকে স্ট্যান্ডার্ড জানলেওতো এত উদ্বেগ থাকার কথা না। নিজের বাচ্চাকে অবশ্যই কোয়ালিটি পূর্ণ সময় দিতে হবে। পাশাপাশি আশেপাশের বাচ্চাদের প্রতিও মনোযোগ দিতে হবে।কারণ আমাদের সুসন্তানরা তখনই ভাল থাকবে, যখন আশেপাশের সন্তানরাও ভালভাবে বেড়ে উঠবে। তাই ভয়ে আর সেটিয়ে থাকা নয়। সমাজকেও কোয়ালিটি সম্পন্ন সময় দিতে হবে,আমার বাচ্চার ভাল থাকার জন্যই। নয়ত একটা বাচ্চাই আমার সব সময় কেড়ে নিবে, তারপরেও ভাল থাকবেনা।সময় দান করে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বাচ্চা আমরা চাইনা।যেদিন পড়বেনা মোদের পায়ের চিহ্ন, সেদিনও আমাদের বাচ্চাদের ভাল থাকার সমাজটা আমাদেরকেই গড়তে হবে। "চলে যাব – তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে সরাব পৃথিবীর জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। "(ছাড়পত্র) ২৯/০৯/২০১৭