দম্পত্তিদের জন্য
***#এইটা_তোমাদের_জন্য**** একবছর হয়ে গেলো তোমাদের বিবাহিত জীবনের।লিজা আমার আদরের ছোট বোন, আর ইজাজ তেমনি আমার আইনি ছোট ভাই।তোমাদের জন্য কিছু কথামালা পাঠিয়ে দিলাম প্রায় ৭০০ মাইল দূরে থেকে শুভেচ্ছা স্বরূপ:: বিবাহিত জীবনটা শুধু ভাসিয়ে নেচে গেয়ে বেড়ালেই সুখী হয়ে উঠেনা। একটা গোল থাকা উচিত। প্রথম এবং প্রধান গোল হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তিনিই এমন স্পেশাল ভাবে দুজনকে দুজনের জীবনে প্রবেশ করিয়েছেন যাতে জীবনের আনন্দগুলো দুজনে মিলে ডাবল করে উপভোগ করবে হয় আর দু:খগুলো দুজনে ভাগাভাগি করে নিবে। জীবনের জার্নিটা দুজনে মিলেই করতে হবে। তাই সুখ শান্তি তৈরী করা কারোর একার দায় নয়। দুজনে মিলেই জার্নিটাকে এনজয়াবল করতে হবে।হয়ত কখনো কখনো একজনের কাছে আরেকজনের খারাপ দিক ফুটে উঠবে, সেগুলো সংশোধিত করার পাশাপাশি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে। চলতে চলতে সম্পর্কে মরিচা ধরে, সেই মরিচারোধের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেটা হল দুজনে দুজনের জন্য সময় বের করা। প্রতিদিনের রুটিন কাজের বাইরেও নতুন নতুন আইডিয়া বের করতে হবে। হয়তবা দুজনে মিলে হাত ধরে রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো, হতে পারে বিকেলে পিঠে পিঠা লাগিয়ে এককাপ চা ই ভাগ করে খাওয়া। দুজন দুজনের ভালদিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। সেগুলো বলতেও হবে। এতে বোঝা যাবে একজন অপরজনের মূল্যায়ন করছে। একজনের ভেতর থেকেই অন্যজনকে শান্তি খুঁজতে হবে। "..তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্প্রীতি ও দেয়া সৃষ্টি করেছেন। .." সূরা আর- রূম(২১) দুজন দুজনের কি রং, কি ফুল, কি খাবার পছন্দ জেনে নিতে হবে। সেই অনুযায়ী গুরুত্বও দিতে হবে। কাছের মানুষদের কাছে যেতে হবে, সাধ্যানুযায়ী গিফট দিতে হবে। এতে কাছের মানুষদের সাথে সম্প্রীতি বাড়বে পাশাপাশি নিজেদের একঘেয়েমি দূর হবে। সংসারে ব্যালান্সড থাকতে হবে। সাধ্যানুযায়ী ভাল থাকার জন্য খরচ করতে হবে, তেমনি অপচয় করা যাবেনা।এইজন্য বছরের প্ল্যান করে ফেলা উচিত। দুজনকে দুজনার বিশ্বাস করতে হবে। অন্যের ঘটনায় নিজেদের ভেতরে সন্দেহের সুযোগ দেয়া যাবেনা। মনে রাখবে প্রতিটি দম্পত্তি ইউনিক, একটি ফ্যামিলি। এখানে ভিন্নতা থাকবেই। অন্য দম্পত্তির তুলনা নিজেদের মধ্যে এনে অশান্তি করা যাবেনা, তেমনি অন্য দম্পত্তির খারাপ দিকগুলো ভেবে নিজেদের ভেতর সন্দেহ ঢোকানো যাবেনা। একজন অপরজনকে সহযোগীতা করতে হবে, ঘরে বাইরে সর্বত্র। বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ দুজনে দুজনেত কাভারিং। "..তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ..."সূরা বাক্কারাহ(১৮৭)। খারাপ কাজে দুজন দুজনকে বাঁধা দেয়ার পাশাপাশি ভাল কাজে সহযোগীতা করতে হবে। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামায, যাকাত, দান সদকায় একজনের ঘাটতি থাকলেও অন্যজন উৎসাহ দিয়ে ঘাটতি কমিয়ে ফেলতে হবে। কোথাও সুদ খাবনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এগিয়ে যাব এই মানসিকতা থাকলে তোমরাই হতে পার অন্য অনেক ভাল দম্পত্তির আদর্শস্বরূপ। ".. হয়ে আমাদের পালনকর্তা!আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর" সূরা আল- ফোরকান(৭৪)। এতদিনে দুজন যে দুজনকে ছাড়া থাকতে পারনা, বুঝে গেছো নিশ্চয়। জীবনের বাকীদিনগুলো তোমাদের আল্লাহর নেয়ামতে পরিপূর্ণ থাকুক আর তোমরাও অন্তর্ভুক্ত হও আল্লাহর ও রাসুল (সা) এর পছন্দনীয় সেরা দম্পত্তির কাতারে।