প্রিয় বৃক্ষত্রয়
প্রিয় বৃক্ষত্রয়

আল্লাহর অশেষ রহমতে নিরাপদে আছি। চট্টগ্রামে নেমেই শুনি সাতনং বিপদ সংকেত। গায়ে মাখিনি। দশ নং বিপদ সংকেতও আমাদের কাছে ছিল ডাল ভাত। সুনামী, নার্গিস, সিডর চট্টলায় থেকেই ফেইস করেছি। সাত এ আর কি হবে? আমাদের বাসা চট্টগ্রাম বনগবেষণাগার এর পাশেই। বিশাল সরকারী বাংলোবাড়ি, তিনপাশেই পাহাড়।দক্ষিন পাশ খোলা। তবে তিনটা আকাশছোঁয়া বন্ধু আছে দক্ষিনদিকে, তা হল তিনটে সেঁগুনগাছ। আমাদের তিনবোনের তিনটা বন্ধু যুগ যুগ ধরে দাড়িয়ে আছে। আজ রোয়ানুর নয় নং সঙ্কেত চলছে। পাহাড় থেকে এক গাছ এসে পড়ল পানির ট্যাঙ্কির উপড়, ট্যাঙ্কি ফেটে গেল, বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হল। প্রচন্ড দমকা হাওয়া বইছে। এরই মধ্যে একটা সেঁগুনগাছ ঘুরতে ঘুরতে মাটি উপড়ে পড়ে গেল পাহাড় ঘেঁষে।আর একটা প্রায় হেলে গেল পিসার হেলানো মিনারের মত। উপড়ে পড়া গাছটা বাড়ির উপর পড়লেই আজকে হয়ত বাংলোতে সবাই চাপা পড়তাম। শ এ শ এ দর্শণার্থী এল দেখতে।গাছগুলো সরকারী সম্পত্তি, উপড় মহল পর্যন্ত খবর চলে গেল। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। আমরা যখন এই বাড়িতে থাকবোনা, বন্ধুদের আসব দেখতে, ওদের সাথে স্মৃতি হাতড়ে কথা বলব। । আমি প্রায় দু বছর পাংশায়, আমার মেজ বোনও প্রায় তিনমাস মানিকগঞ্জে। এক বছর পর হয়ত ছোটও থাকবেনা। বন্ধু কি তবে আমাদের বিরহে নীরবে আমাদের কাঁদিয়ে চলে গেল। গাছ পাখি আমরা তিনবোন খুব ভালবাসি। বন্ধুকে দেখব বলেই কি এতদূর এত প্রতিকূল পরিবেশে চলে এলাম। গাছের জন্য খুব কান্না পাচ্ছে।