সর্বগুনের ধারক আমার মা
সর্বগুনের ধারক আমার মা

মা দিবস এলেই ছবি তুলতাম মায়ের সাথে। কখনোবা বাচ্চাদের সাথে মা হিসেবে অথবা শ্বাশুড়ীমা বা মায়ের জাতি এই ক্যাপশনে ছবি তুলতাম। কিন্তু আমার মায়ের কোন তুলনা নেই আমার কাছে। ছোট বেলায় নীলচে টিনের তিব্বত পাউডারের কৌটোর গায়ে অসামান্য এক সুন্দরী মহিলার ছবি ছিল। মায়ের মত দেখতে বলে পাউডার শেষ হওয়ার পরেও ডিব্বাগুলো সযতনে রেখে দিতাম। উদ্যোমী, পরিশ্রমী মা আমার!ফজরের আযানের সময় ঘুম থেকে উঠে যার ক্লান্তিবিহীন কাজ আজও চলে। প্রচন্ড রাগী, মমতাময়ী আর সাহসী মা আমার!যার চোখের দিকে অন্যায় করে তাকাবার সাহস আমাদের নেই। বনেদী পরিবারের ছোট মেয়ে আমার মা। আদর আর আহলাদ বেশি পেলেও ছোট বেলাতে বাবা মারা যাওয়ায় বাস্তবতা খুব ভাল করেই বুঝতে শিখেছিলেন। আর তাই তাঁর চোখে পানি দেখেছি খুব কম। বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়াই যেন জীবনের আর এক দিক। পাড়ার ছেলেরা তাঁকে খুব ভয় পেত। তিনটে মেয়ে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেছেন।অদম্য ইচ্ছে নিয়ে একহাতে তিনটে মেয়েকে তিনি তিনটে সন্তানের মত বড় করেছেন, গ্র্যাজুয়েট(চিকিৎসক) বানিয়েছেন। পাত্রস্থ করেছেন তিনটে গ্র্যাজুয়েট(চিকিৎসক)ছেলের কাছে। তিনটে জামাইকে আদর, শাসন আর ভালবাসেন তিনটে ছেলের মতই। তাই তাঁর এই তিনটে ছেলে তাঁর তিনটে মেয়ের মতই তাঁকে শ্রদ্ধা করেন এবং ভালবাসেন। এই ছয়জন গ্র্যাজুয়েট সন্তানের মা হয়েই ক্ষান্ত হননি। নাতি নাতনীর আর এক মা হয়ে গিয়েছেন। এই মা এক্ষেত্রেও একাই একশ।এমন একজন মা আমার পৃথিবীর সব থেকে বড় সম্পদ। বয়স হয়েছে তাঁর।চুলে পাক ধরেছে অনেক আগেই। হাইপারটেনশন আর পাওয়ায়ের চশমাতো আছেই। সাথে আছে হাড্ডিক্ষয় জনিত ব্যথা। কিন্তু তাঁর মনের তেজ আর বল এখনো কমেনি। এখনো সেই রকম পরিশ্রমী আর উদ্যোমী। অন্যায়ের সাথে আপোস করেননা আর নিজের সততা কখনোই বিক্রি করেননি।এখনো ম্যানেজম্যান্টে আমার মাকে আমি বলি সেরা মা। এই মায়ের সন্তান হয়ে তার গুনাগুন কতটুকু ধরে রাখতে পারব জানিনা। কিন্তু সবগুনের ধারক বাহক আমার মা নেক হায়াত নিয়ে বেঁচে থাকুক শতবছর,এইটুকুন চাওয়া আল্লাহর কাছে সবসময় চাই। ১৫/০৫/২০১৭