একুশ ও বর্তমান
একুশ ও বর্তমান

একুশের মাঝে একটা দুখী দুখী ভাব যেন থেকেই যায়।সব যেন কালো শোকের আর লাল রক্তের প্রতীক। যারা আমাদের এই ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করে দিয়েছেন,একুশের দিন আমরা সাদা কালো অথবা লাল দিয়ে তাদের প্রতি সমবেদনাটুকুই জানাই, এই কি শুধু তাদের প্রাপ্য!! অথচ মিষ্টি করে বাচ্চারা যখন মা বাবা অথবা নাম ধরে ডাকে, মনে হয় জয়ের প্রতিধবনি শুনছি। প্রিয়তমা ভালবাসি শব্দগুলো যেন স্বর্গীয় সুখ এনে দেয়। শুদ্ধ সাবলীল বাংলায় ভরাট কন্ঠের কথাগুলো মনে হয় শ্রেষ্ঠবাণী।এই ভাষায় আমরা যখন একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাই, তাকে দামাল বা তেজী ছেলে বলে বাহবা দেই।ওইপাড়ে সেই ভাষা শহীদেরা তখন কি আনন্দে চোখের জল ফেলেন?সাদা কালো রং ধারণ করে ঘুরে বেড়াই আর ডায়ালগ দেই, তোরে তো হেভভী লাগতেছে, অথবা লাল থিমে সব সাজিয়ে বলি চল একটা সেলফি তুলি, নইলে এই লালের ভ্যালু নাই।বাংলিশ স্টাইলে সাদা-কালো–লালের জয়জয়কার!! ভাষা শহীদগণের মুখগুলো কি তখন ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করে? কালো টাকায় বাড়ি গাড়ি করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, অফিসের সামান্য একটা ফাইল সরাতে অথবা দিনমজুরের ছেলে বা মেয়ের একটা সামান্য চাকুরী জোটাতে সাদা মনের মানুষ গুলোকে কালো হতে বাধ্য করি। অথবা সামান্য ব্যাপার নিয়ে খুনাখুনী, সামান্য জমি নিয়ে রক্তের হোলি খেলা-সেতো লাল রক্তের আভিজাত্যকে অপমান করি। এই কালো, এই লাল সবতো এই ভাষাতেই করি। সেই বায়ান্নের ভাষা শহীদেরা তখন কি আর্তনাদ করেন? কারোরই কি জানতে ইচ্ছে করেনা????