অটিস্টিক সততা
অটিস্টিক সততা

আমাদের প্রজন্ম, বেশিরভাগই বড় হয়েছি বাবা মায়ের একটু বাড়তি যত্ন নিয়েই।প্রায় বাবা মা ই বলতেন সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে।তাঁদের চাওয়া ছিল আমরা যেন সবসময় ভাল থাকি, তাইতো আমাদের বলেননি অনেক টাকা ইনকাম করতে বা সংসারে টাকা পাঠাতে অথবা ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব নিতে। এইরকম দায়বদ্ধতা নেই বলেই হয়ত আমরা টাকাপয়সা লেনদেনের ব্যাপারে কৃপণ (!!)।এই যেমন আমাদের ডাক্তার প্রজন্মের কথাই বলছি। কেউ এখন আর হাসপাতালে টাকা দিয়ে সার্টিফিকেইট দেয়না বা রোগীর কাছে উপরি কিছু নেয়না। আইটি নলেজও খারাপ না। তাই বেতন বিল বা অন্যান্য অফিসিয়াল বিল, ইনকাম ট্যাক্স, এইচ আর এম আপডেইট নিজেরাই পারেন কারো সাথে টাকার লেনদেন না করেই। কিন্তু ওপড়তলায় এখনো ছোট বড় সবাই কৃপণ হতে পারিনি। তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের উদার হস্তে বিলিয়ে দেই সবাই অনিচ্ছাসত্বেও। একটা ফাইল সরানো যে কি পরিমাণ ভারী কাজ, অধিদপ্তরে না গেলে বোঝাই যায়না। এই গতর খাটানো ভারী(!!) কাজে উপরি না নিলে ঐ কর্মচারীদের সংসারই চলেনা (বেতন বাড়ার পরেও)।বেশিরভাগই এই গতর খাটা(!!) কর্মচারীরা আমাদের বেশ আগের প্রজন্মের যারা দায়বদ্ধ ছিল অথবা নতুন হলেও অভ্যেসগত ভাবেই উপরি নেয়। আর আমাদের প্রজন্ম, আগের মতই ঝামেলা এড়াতে অভ্যেস করেছি ঘুষ নামক বকশিস দিয়ে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন!!! আমরা চাইলেই পারি। অন্তত ৩৩ বিসিএস ডাক্তার প্রজন্ম একসাথে থাকলেই একটা বিপ্লব ঘটাতে পারে। আমাদের টাকার জন্য বাবা মাকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছেনা, বোনের বিয়ে আটকে থাকছেনা বা স্ত্রী বা স্বামী সুরম্য অট্টালিকা গড়তে চাইছেনা। আমরা তো উপরি নেইনা। তাহলে আমাদের সৎ আয়ের বড় অংশ ক্যান উপরি দিতেই চলে যায়?ইচ্ছে করে সেই ছোট বেলায় ফিরে গিয়ে বাবা মাকে জিজ্ঞেস করি, বলেছিলে সর্বদা সত্য বলতে কিন্তু ক্যান বলনি কি করে মিথ্যাকে পরাস্ত করতে হয়, বলেছিলে ঘুষ না খেতে কিন্তু ক্যান বলনি ঘুষ চাইলে কি করব?এই ধরনের অটিস্টিক সৎ সন্তানগুলোই কি তোমাদের কাম্য ছিল???