আমার শখ
My hobby বা আমার শখ ক্যান যেন কখনো নির্দিষ্ট ছিল না।প্যারাগ্রাফ লিখতে my hobby বলতে প্রায়ই লিখতাম বাগান করা /ডাকটিকিট সংগ্রহ করা। কিন্তু বাস্তবটা ছিল ভিন্ন। খুব ছোট বেলায় শখ ছিল পুতুল বানানো। কাপড় দিয়ে কতরকম যে পুতুল বানিয়েছি, হিসেবে ছিলনা। তারপর ছন্দ মিলিয়ে ছড়া লিখা। ক্লাস ফাইভে যখন উঠলাম, হুট করেই মাথায় ঢুকল ফুলের বাগান করা।তিনমাস ছিল এই শখ। নিজেই বাগান পরিষ্কার করতাম, গাছ সংগ্রহ করতাম।এখনো আমার চোখে দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকায় আমার ওই বয়সে করা বাগানটা চোখে ভাসে। তিনমাস পরেই আব্বু বদলী হল। আমার এই শখ শিকেয় উঠল।প্যারাগ্রাফে লিখতে লিখতে সেই ডাকটিকিট সংগ্রহও আমার শখ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।এটা মনে হয় সবচে কঠিন শখের কাজ ছিল। নয়দশ পৃষ্ঠা সংগ্রহ করার পর সংগ্রহে ভাটা পড়ল।ডায়েরী লিখাও একটা সময় শখ ছিল।হাইস্কুল থেকে একদম ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত এই শখ ছিল।সবচে লম্বা সময়ের শখ। এর মাঝেও আরো কিছু শখ যোগ হয়েছিল। পুরাতন কলম সংগ্রহে রাখা। লম্বা লম্বা কলম পাওয়া যেত। কিন্তু বেশিদিন ভাল লাগেনি। সপ্তম শ্রেণীতে শখ হল কাগজ কেটে তা লাগিয়ে লাগিয়ে ছবি আঁকা, অনেকটা অ্যাপ্লিকের কাজের মত। এই শখটা কাজে লেগেছে : ডেন্টালে বিভিন্নধরনের বাধ্যতামূলক প্রেজেন্টেশনে ছবি আঁকায় ওই কষ্টকর পদ্ধতি অবলম্বন করতাম,আর আমাদের অর্থোডন্টিকস ডিপার্টমেন্ট হেড পিনু স্যার সেই ছবিগুলো মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে হাতের কাজের প্রশংসা করত এবং সেগুলোতে এ প্লাস দিত,তখন সব কষ্ট উধাও হয়ে যেত।দশম শ্রেণীতে একটা মজার শখ ছিল :তাহলো সেলিব্রিটিদের ছবির পেপার কাটিং সংগ্রহে রাখা। বিনোদন আর খেলার জগতের তারকাদের প্রায় সবারই পেপার কাটিং পিকচার ছিল। স্কুল ব্যাগে একবার রোনালদো আর তার প্রেমিকার ছবি ক্লাসটিচারের হাতে পরে ইচ্ছেমত বকুনি খাওয়ার পর সেই শখের অবসান হয়েছিল। ইন্টারমিডিয়েট এর শেষ দিকে লকসমেত খুব সুন্দর ডায়েরী গিফট পেয়েছিলাম। শখ হল ডায়েরী ভরব অটোগ্রাফ দিয়ে। মেডিকেল লাইফের প্রথম দুবছর সময় জুড়ে এই শখ ছিল।প্রতিবছর একুশে বইমেলায় বই কিনতে যেতাম লেখকদের অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য। তবে তীব্রতা কমতে কমতে কবে যে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে গিয়েছিল, টেরই পাইনি।আর বই কেনাও শখ ছিল। তবে এটা এখনো শেষ হয়নি আবার নিরবিচ্ছিন্ন শখ হিসেবেও থাকেনি। আমার মেয়ে হবার পর দেখি, আমি রান্না বান্না তেমন পারিনা।অথচ আমার আম্মু খুব ভাল রাঁধেন এবং অনেক দেশী—বিদেশী রান্না জানেন।সবচে ছোট বোন রাঁধুনী প্রতিযোগীতায় অবলীলায় ধাপে ধাপে জিতে যাচ্ছিল।মেয়ের জন্যই রাঁধতে রাঁধতে রান্নাটা শখ এবং নেশায় পরিণত হল।আম্মুর সহযোগীতায় আমিও অনেকধরনের রান্না শিখতে লাগলাম।কিছুদিন ধরে এটায় আর আগের মত শখের আনন্দ পাইনা। নতুন করে কি শখ মাথায় চাপবে জানিনা। একজীবনে শখের এত বাহার দেখে অবশেষে উপলব্ধি করতে পারছি..শখ আসে ভাললাগা থেকে। পুরো জীবনের সব কিছুতেই যদি ভাললাগা খুঁজে পাওয়া যেত,তাহলে জীবনই যেন শখের বিষয় হত।জীবনটাই যখন শখের, জীবনটাই যখন ভাললাগার, তখন জীবনে হতাশা আর গ্রাস করতে পারতনা আমাদের।দু:খ কষ্ট কে সহজেই হারিয়ে দিতে পারতাম সবাই।
January 23 at 7:00pm ·